মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত (১৫ আগস্ট ২০২১)


প্রকাশন তারিখ : 2021-08-15

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত (১৫ আগস্ট ২০২১):

                         
     
১৫ আগস্ট ২০২১। ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মহোদয় ড. মো. মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে সকাল ০৬:৩০ ঘটিকায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে অবস্থিত জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় সুরা ফাতেফা ও দুরূদ শরীফ পাঠ করা হয়। এবং বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

বেলা ১০:০০ ঘটিকায় ইনস্টিটিউটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা ও ১৫ই আগস্টের সকল শহিদ স্মরণে ‘শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ’ প্র্রতিপাদ্যে অনলাইন প্লাটফর্ম জুম-এ ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিএফআরআই-এর পরিচালক মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ইনস্টিটিউটের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ড. রফিকুল হায়দার, বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. হাসিনা মরিয়ম, জনাব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ড. মো. মাহবুবুর রহমান, ড. মোহাম্মদ জাকির হোসাইন, ড. মো. আহসানুর রহমান, জনাব মো. আনিসুর রহমান, জনাব নুসরাত সুলতানা, ড. আ. স. ম. হেলাল উদ্দীন আহমেদ সিদ্দিকী, জনাব মো. গোলাম মওলা, জনাব মো. শহীদুল ইসলাম এবং ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, লাইব্রেরিয়ান, রিসার্চ অফিসার, স্টোর অফিসার, ফিল্ড ইনভেস্টিগেটর, রেঞ্জারসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভার শুরুতেই জাতির জনকসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদ স্মরণে শোক ও শ্রদ্ধায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সভাপতি মহোদয়ের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পরে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন বিভাগীয় কর্মকর্তা (প্রশাসন), জনাব মো. জাহাঙ্গীর আলম। আলোচনায় তিনি ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডকে ইতিহাসের কালো অধ্যায় বলে অভিহিত করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের বিচার এবং এই ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের সাথে সম্পৃক্ত ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন দাবী করেন।

মূল আলোচনার পরে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য প্রদান করেন বীজ বাগান বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. হাসিনা মরিয়ম। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পরে দেশে এক বৈরি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। যিনি স্বাধীনতা এনে দিলেন, সেই জাতির জনকের নাম উচ্চারণ করা ছিল অপরাধ। বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করা হয়েছিল। তাকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছিল কুচক্রী মহল। কিন্তু তা সম্ভবপর হয়নি। বঙ্গবন্ধু হলেন বাংলাদেশের ইতিহাস। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে তিনিও ততদিন থাকবেন।

এছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন সিলভিকালচার জেনেটিক্স বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান। আলোচনায় তিনি পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ দেশের নাম ‘বাংলাদেশ’ নামকরণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

উন্মুক্ত আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন প্ল্যান্টেশন ট্রায়াল ইউনিট বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা জনাব গোলাম মওলা, ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. আ. স. ম. হেলাল উদ্দীন আহমেদ সিদ্দিকী, সিলভিকালচার রিসার্চ বিভাগের গবেষণা কর্মকর্তা জনাব লায়লা আবেদা আক্তার, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ অফিসার জনাব মো. জহিরুল আলম, বিএফআরআই-এর আঞ্চলিক বাঁশ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ডোমার নিলফামারীতে কর্মরত গবেষণা কর্মকর্তা জনাব মো. মাহাবুব আলম; জনাব মো.এমদাদুল হক, রিসার্চ অফিসার, ডিপিপিআই শাখা; জনাব তন্ময় দে, রিসার্চ অফিসার, প্ল্যান্টেশন ট্রায়াল ইউনিট বিভাগ।

উন্মুক্ত আলোচনা শেষে বিএফআরআই-এর মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ড. রফিকুল হায়দার বক্তব্য প্রদান করেন। শুরুতেই তিনি ১৫ আগস্টের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশ ও বাঙালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ বর্ণনা করেও শেষ করা যাবে না। যে বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামে তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন, আমাদের মধ্য থেকেই ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করল। আমরা জাতির জনকের বিশ্বাসের প্রতিদান দিলাম বিশ্বাস ঘাতকতায়। ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পরে দেশে এক বৈরি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে দেশে বঙ্গবন্ধু চর্চার এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমাদেরকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পড়তে হবে, জানতে হবে। তাঁর আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভার শেষে সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন বিএফআরআই-এর পরিচালক মহোদয় ড. মো. মাসুদুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির কালো অধ্যায়। শুধু বাংলাদেশেই না সারা বিশ্বের কোথাও এমন নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটেনি। যে হত্যাযজ্ঞে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে খুঁজে খুঁজে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি ছোট্ট রাসেলও বাদ যায়নি, সে নারকীয় হত্যাকান্ডের বর্ণনা করার ভাষা নেই। সেইসব হত্যাকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মানব মুক্তির দূত। তিনি বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছেন বিশ্ব মানচিত্রে একটি সার্বভৌম ভূখন্ড। সারা পৃথিবীর নির্যাতিতের জন্য তিনি চির অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছেন, এ আমাদের পরম সৌভাগ্য। বিশ্বে বাঙালি জাতির চেয়ে ভাগ্যবান জাতি আর কেউ নেই। ভারতীয় উপমহাদেশে কোনো একক জাতির জন্য নির্দিষ্ট একক ভূখন্ড নেই। বাংলাদেশ নামক এই ভূখন্ড যতদিন থাকবে বাঙালি জাতি ততদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করবে গভীর শ্রদ্ধায়।

আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন বিএফআরআই-এর পাবলিসিটি অফিসার জনাব এয়াকুব আলী।

উল্লেখ্য, বিএফআরআই-এর প্রধান কার্যালয়ের বাইরে প্ল্যান্টেশান ট্রায়াল ইউনিট বিভাগ, বরিশাল এবং ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগ, খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০২১ পালন করা হয়।

       


Share with :

Facebook Facebook